সমঝোতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নিয়ে আসো, ছাত্রলীগকে শেখ হাসিনা

প্রকাশিতঃ 10:55 pm | May 11, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

সমঝোতার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, আমি চাই, সমঝোতার ভিত্তিতেই তোমরা তোমাদের নেতৃত্ব নিয়ে আসো। মনে রেখো, স্যাক্রিফাইস (আত্মত্যাগ) করা শিখতে হবে। ত্যাগ করা না শিখলে কিছু অর্জন করা যায় না। অর্জন তখনই করতে পারবা যখন কিছু দিতে পারবা।

শুক্রবার (১১ মে) ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন তিনি।

ছাত্রলীগ নেতাদের বয়স নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগের বয়স গতবার আমরা দুই বছর গ্রেস দিয়ে ২৭ থেকে ২৯ বছর করেছিলাম। এবার যেহেতু ২ বছরের কমিটির বয়স ২ বছর ৯ মাস হয়ে গেছে। কাজেই এবার আমরা ১ বছর গ্রেস দিতে পারি। কারণ এখন কোনো সেশনজট নাই। ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে পড়াশোনা শেষ হয়ে যায়। তোমরা লেখাপড়া করো আমি সেটাই চাই।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছাত্রদের বলতে চাই, কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম (ভ্যান্ডালিজম) চলবে না। ছাত্ররা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করবে, এটা আমি বরদাশত করবো না। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদিও স্বায়ত্বশাসিত; কিন্তু খরচ দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নির্দেশ দেওয়া আছে, ভাঙচুরকারীরা যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। আমরাও তো আন্দোলন করেছি। ভিসির বাড়িতে ঢুকে লুটপাট করা, তার রুম ভাঙা, এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোদিনও ঘটে নাই। ইতোমধ্যে অনেকে ধরা পড়েছে, সবাই ধরা পড়বে। লুটপাটে যারা জড়িত তাদের ধরা হবে। এ ধরনের কোনো ঘটনা আমি আর চাই না।
‘কারণ ভিসির বাড়িতে আক্রমণ বা শিক্ষকদের অপমান করা। আমি শিক্ষকদেরও বলবো, শিক্ষকরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লাগবেন আর তার ফল ছাত্ররা ভোগ করবে সেটাও আমি চাই না। শিক্ষকদের কিছু বলার থাকলে আমাকে বলবেন। কোনো কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি করা কখনও বরদাশত করবো না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি ছাত্রদের কাছে একটি কথাই বলবো, প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রথম কাজ হচ্ছে শিক্ষাগ্রহণ করা। শিক্ষার নীতিমালা, শিক্ষার ব্যাপারে কী করতে হবে, না হবে আমি তা জানি, আমাদের বয়স হয়েছে। নিশ্চয়ই আমরা অনেক ভালো জানি। আর জানি বলেই আমরা সেইভাবে সময়োপযোগী শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ছাড়াও ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

 

কালের আলো/এসএসএ

Print Friendly, PDF & Email