‘তোমরা আমার বুকের মানিককে কাছে এনে দাও’

প্রকাশিতঃ 10:32 pm | May 10, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

‘দুইমাস পাঁচদিন ধরে আমার বাবাকে দেখি না। তোমরা আমার বুকের মানিককে কাছে এনে দাও।’ কান্না জড়িত কণ্ঠে এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন অপহৃত স্কুলছাত্র মেহেদী হাসানের মা মিনারা খাতুন।

বৃহস্পতিবার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার কেশরগঞ্জ বাজার এলাকায় মানববন্ধনে এ আকুতি জানান তিনি। এসময় তার কান্নায় মেহেদী’র সহপাঠীরাও কাঁদতে থাকে। নিখোঁজ শিক্ষার্থী মেহেদী চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার পলাশীহাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করে।

মানববন্ধনে মেহেদীর বাবা দুবাই প্রবাসী শাহজাহান বাকরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, সন্তানের ফলাফলের সাফল্যে যখন আমাদের আনন্দে আত্মহারা হবার কথা, ঠিক তখনই তাকে না পেয়ে চোখের জলে আমাদের বুক ভাসাতে হচ্ছে। আমার সন্তান জীবিত না মৃত তাও জানি না।

এসময় তিনি তার সন্তানের হদিস দিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধনে মেহেদীর স্বজন ও সহপাঠী ছাড়াও স্কুল শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

এতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মেহেদীর সন্ধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। গত ১২ মার্চ তুষার নামে এক ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও এরপর আর কেউ আইনের আওতায় আসেনি। অবিলম্বে এ মেধাবী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

এসময় বক্তব্য রাখেন- স্থানীয় নাওগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, পলাশীহাটা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ একেএম শামছুল হক, পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ এসএসসি পরীক্ষা শেষে বাড়ি থেকে কেশরগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি মেহেদী। পরে মেহেদীর মোবাইল থেকে ছয়লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে মা মিনারার মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা আসে। এরপর থেকেই ওই মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে ১২ মার্চ মেহেদীর মা বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন। এ প্রেক্ষিতে পুলিশ তুষার নামে এক তরুণকে আটক করে।

 

কালের আলো/ওএইচ

Print Friendly, PDF & Email