ঘুড়ি প্রতীক পেয়ে উচ্ছ্বসিত আসিফ, জিততে চান লড়াই করেই

প্রকাশিতঃ 10:19 pm | January 10, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আসিফ আহমেদ ঘুড়ি প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে তিনি এই প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। জমজমাট নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছেন রাজনৈতিক পরিবারের এ সন্তান।

উচ্ছ্বসিত আসিফ আহমেদ বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচনী প্রচারণা চালাবো। ইতোমধ্যেই ভোটের আমেজ শুরু হয়েছে। যোগ্য প্রার্থী হিসেবেই লড়াই করে ভোটে জিততে চাই।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোটাররা স্বত:স্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ঘুড়ি প্রতীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘অন্যসব প্রার্থীদের চেয়ে আমি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে চাই। ভোটের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। মানুষজন স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে প্রস্তুত।’

এদিন বিকেলে কালের আলো’র সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন মুজিব আদর্শের পরিবার থেকে উঠে আসা উদীয়মান তারুণ্যের এই প্রতীক।

এরপর দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মোহাম্মদপুরের নিজ এলাকায় এসে পৌঁছেন আসিফ আহমেদ।  

বঙ্গবন্ধু অন্ত:প্রাণ তরুণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষের  মানুষদের এবং বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী আমি। আমি মনে করি আগামী ৩০ জানুয়ারি ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিকরা আমার পক্ষে রায় দেবেন।’

আসিফ আহমেদকে ঘিরে ভোটের নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয় থানা আওয়ামী লীগের এই রাজনীতিককে ঘিরে মেধাবী তরুণদের পাশাপাশি বয়স্ক-যুবা বা নারী ভোটাররাও পরিবর্তনের স্বপ্ন বুনছেন।

কথিত ‘জনতার কাউন্সিলর’ তারেকুজ্জামান রাজীবের অপকীর্তিতে রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছিল এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ফলে এই ওয়ার্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং সাধারণ ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেই স্থানীয়দের চাপে প্রার্থী হয়েছেন আপাদমস্তক আওয়ামী লীগ পরিবারের এই সন্তান।

দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই তাঁর পক্ষে স্থানীয় ওয়ার্ডে রীতিমতো জোয়ার তৈরি হয়েছে। পুঞ্জিভূত নানা সমস্যায় ডুবন্ত ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে নতুন মন্ত্রে উজ্জীবিত করছেন আসিফ আহমেদ।

বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে উন্নয়ন এবং সাফল্যের শিখরে পৌঁছা দেশকে আরও এগিয়ে নিতে রাজধানীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদেরও এক কাতারে শামিল করেছেন ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থী আসিফ আহমেদ।

তরুণ প্রার্থী আসিফ আহমদের প্রচারণার স্টাইল দেখতে যুক্ত হয় কালের আলো’র এই প্রতিবেদক। স্থানে স্থানে চলে স্লোগান ‘জননেত্রীর সালাম নিন, ঘুড়ি মার্কায় ভোট দিন’, ‘আসিফ ভাই ভাল লোক, জয়ের মালা তারই হোক’ ইত্যাদি।

তাঁর সঙ্গে পথ চলতে চলতে কালের আলোকে আসিফ আহমেদ জানান, প্রথমবারের মতো ভোটযুদ্ধে নামলেও রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি শৈশবেই। আর ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আত্নিক। তাঁর বাবা বাবা আনিস আহমেদ একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী।

বঙ্গবন্ধুকে বাবা ছোট থেকেই মনেপ্রাণে ধারণ করেন। আসিফ বলেন, ‘আমার চাচারাও সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ফলে আমার শৈশবেও প্রথম প্রেম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

আমি কোন পদ পদবীতে না থাকলেও মিছিলে ছাত্রলীগের প্রথম সারির কর্মী ছিলাম।’

সবার দোয়া ও সহযোগিতায় আগামী ৩০ জানুয়ারির ভোটে নির্বাচিত হলে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডকে আধুনিক ও সমস্যামুক্ত একটি ওয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজের অঙ্গীকারের কথা জানান আসিফ আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি এবারও বলছি আমার বাবা-মা এই ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডবাসীকে কাঙ্খিত সেবা দিতেই আমাকে উৎস্বর্গ করেছেন।

অতীতেও যেমন তাদের দু:খে-সুখে পাশে ছিলাম। ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতায় পথ চলতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য যেমন আমার রক্তঋণ।

তেমনি এই ওয়ার্ডবাসীর প্রতিও আমার গভীর মমত্ববোধ। তাদের সঙ্গেই বাকীটি জীবন কাটাতে চাই। এই ওয়ার্ডবাসীর যোগ্য সন্তান হিসেবেই আমি বিজয়মাল্য পড়তে চাই।’

কালের আলো/সিএইচ/আরআর

Print Friendly, PDF & Email