বাস কন্ডাক্টর শিবাজি থেকে সুপারস্টার রজনীকান্ত হলেন যেভাবে

প্রকাশিতঃ 11:58 am | November 08, 2019

কালের আলো ডেস্ক:

বাবা-মায়ের দেওয়া নাম শিবাজি রাও গায়কোয়াড়। তবে জনপ্রিয় রজনীকান্ত নামে। অনেকেই হয়তো জানেন না, তামিল ছবির এই সুপারস্টার একসময় অভাবের তাড়নায় কুলির কাজ থেকে শুরু করে বাসের কন্ডাক্টরের কাজ পর্যন্ত করেছেন।

রজনীকান্তের জন্ম ১৯৫০ সালে বেঙ্গালুরুর এক মরাঠি পরিবারে। মা ছিলেন গৃহিনী। আর বাবা রামোজি রাও ছিলেন পুলিশের কনস্টেবল। খুব কম বয়সে মাকে হারিয়েছিলেন রজনীকান্ত। চার ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন রজনীকান্ত। ১৯৫৬ সালে রজনীকান্তের যখন ৬ বছর বয়স তখন তাঁর বাবা চাকরি থেকে অবসর নেন। ছয়জনের সংসারে পেনশনের টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে তাঁর বাবার। তাই সপরিবারে বেঙ্গালুরু শহর ছেড়ে কাছেই হনুমন্থনগর বস্তিতে ঘর বেঁধে থাকতে শুরু করেন তাঁরা।

রজনীকান্ত

বেঙ্গালুরুর একটা সরকারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন রজনীকান্ত। তারপর হনুমন্থনগরে তাঁর দাদা তাঁকে রামকৃষ্ণ মঠে ভর্তি করিয়ে দেন। ছোট থেকে ক্রিকেট, বাস্কেটবলের প্রতি আগ্রহ থাকলেও অভিনয়ের প্রতে তেমন আগ্রহ ছিল না। রামকৃষ্ণ মঠেই তাঁর অভিনয়ে হাতেখড়ি।

সংসারের টানাপড়েনে স্কুল পাশ করেই রজনীকান্ত চাকরির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কখনও কুলির কাজ, কখনও কাঠমিস্ত্রির কাজ করেছেন। তারপর বেঙ্গালুরু ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের বাস কনডাক্টরের কাজ পান তিনি।

এসব কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রে অভিনয় করতেন রজনীকান্ত। তবে অভিনয়ে জনপ্রিয় হওয়ার আগে বাস কন্ডাক্টর হিসাবেও ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

যে রুটের বাস কন্ডাক্টর ছিলেন রজনীকান্ত, সে বাসটা ধরার জন্যই অনেক সময় পাবলিক অপেক্ষা করতেন বলে শুনা যায়। কারণ, রজনীকান্ত বাসের মধ্যেও টিকিট সংগ্রহের সময় তাঁর নিজস্ব স্টাইলে যাত্রীদের বিনোদন দিতেন।

বাস কন্ডাক্টরের চাকরি করার সময় রজনীকান্ত কবি ও লেখক টপি মুনিয়াপ্পার পৌরাণিক কাহিনিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। সে সময়ই তিনি অভিনয়টা আরও ভাল করে শেখার জন্য মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।

রজনীকান্ত

কাজ ছেড়ে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্তে বাড়ির লোকেদের একেবারেই মত ছিল না। সে সময় এক বাস কন্ডাক্টর বন্ধু তাঁকে ভরসা জুগিয়েছিলেন। তাঁকে আর্থিক সাহায্যও করেছিলেন।

ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পড়াকালীন সময় তামিল ছবির পরিচালক কে বালাচন্দ্রের নজরে পড়েন। তাঁর পরামর্শেই তামিল ভাষা শেখেন রজনীকান্ত। ১৯৭৫ সালে কে বালাচন্দ্রের ফিল্ম ‘অপূর্বা রাগাঙ্গাল’ ছবিতে প্রথম অভিনয় শুরু করেন তিনি।

সপরিবারে রজনীকান্ত

তারপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। একের পর এক ছবির প্রস্তাব পেতে শুরু করেন তিনি। ২০০৭ সালে ‘শিবাজি’ ছবিতে ২৬ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেতা হন তিনি। সে বছর পারিশ্রমিকে এশিয়ায় প্রথম ছিলেন জ্যাকি চ্যান।

২০১০ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, তখন তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩৫৪ কোটি ৬৮ লাখ ১৫ হাজার রুপি। সম্পত্তির এই হিসেব গত ৯ বছরে আরও বেড়েছে। ধারণা করা হয় তাঁর বর্তমান সম্পত্তির পরিমান অন্তত ৪০০ কোটি রুপি।

কালের আলো/এডিবি

Print Friendly, PDF & Email