হেয় প্রতিপন্ন করার আগে পেশাগত এথিকস নিয়ে ভাবতে হবে : ডিসি

প্রকাশিতঃ 1:09 am | November 05, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলোঃ

ময়মনসিংহে স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজানুর রহমান বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমকে তার দায়বদ্ধতার নিরিখে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে মানুষকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার আগে পেশাগত এথিকস (নৈতিকতা) নিয়ে ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা বাংলাদেশকে বদলে দেব। দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবো। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ ও ইতিবাচক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ডিসি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়নের ধারা প্রচারে সংবাদ মাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

সোমবার (০৪ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এডিএম ফরিদা ইয়াসমিনসহ সিনিয়র সম্পাদকরা বক্তব্য রাখেন।

সভায় জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আসন্ন ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ব্যাপক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। ময়মনসিংহে ‘বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহসহ সংকলন প্রকাশ করা হবে। জেলা প্রশাসক এ ব্যাপারে সবার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন স্থানীয় গণমাধ্যমও এক্ষেত্রে বিশেষ প্রকাশনার আয়োজন করবে। এ সময় স্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের জন্য সংবাদ মাধ্যম ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজনসহ জেলা পর্যায়ে সংবাদপত্র ম্যানেজমেন্ট কমিটি করার ঘোষাণা দেন জেলা প্রশাসক।

একই সাথে তিনি সরকারের উন্নয়ন সংবাদ প্রকাশকে উৎসাহিত করতে ‘ডেভেলপমেন্ট স্টোরি কম্পিটিশন’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, উন্নয়ন প্রচারে সরকারকে সহযোগিতা করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে সেরা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের পুরস্কার দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট তহবিল গঠন করছেন। প্রকৃত সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের এই উদ্যোগ যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

তবে সম্পাদকরা জানান, অতীতে জেলা প্রশাসকের কাছে কল্যাণ ফান্ডের জন্য তালিকা দেওয়া হলেও তাদেরকে তালিকাভুক্ত না করে একটি বিশেষ শ্রেনীকে সরকারের এ সুবিধা দেয়া হয়েছে এবং বার বার তারাই সুবিধা লুটে নিচ্ছে। এ জন্য সম্পাদকগণ দুস্থ ও দরিদ্র মেধাবী সাংবাদিকদেরকে কল্যাণ ফান্ডের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আহবান জানান।

সূত্রমতে, স্মরণকালের মধ্যে এই প্রথম কোন জেলা প্রশাসক পত্রিকার শহর ময়মনসিংহের সংবাদপত্র সম্পাদকদের নিয়ে বসলেন। মতবিনিময় সভায় সম্পাদকরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে স্থানীয় সংবাদপত্রের বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

এ সময় সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বার্থে জেলা পর্যায়ের বিজ্ঞাপন বন্টনে সমন্বয়ের ওপর জোর দাবি তুলে ধরেন সম্পাদকরা।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ময়মনসিংহে উন্নযন কর্মকান্ডের প্রচার কম, অথচ ময়মনসিংহ উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। যাকে হাইলাইটস করা উচিত। তিনি আরো বলেন, ময়মনসিংহ জেলার সাথে সকল উপজেলার উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভাগীয় শহর, হাইটেক পার্ক, বিকেএসপি ইত্যাদি হতে যাচ্ছে।

সভায় দৈনিক আজকের ময়মনসিংহ সম্পাদক ও প্রেসক্লাব ময়মনসিংহের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মো: শামসুল আলম খান ময়মনসিংহ সংবাদপত্র জগতের পথিকৃৎ মরহুম শেখ হাবিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, মরহুম শেখ হাবিবুর রহমানের ময়মনসিংহ সংবাদপত্র জগতের এক গৌরব উজ্জল ইতিহাসের নাম। তিনিই ময়মনসিংহের সংবাদপত্র জগতকে সমৃদ্ধ করে গেছেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশিত নিউজ তুলে ধরলে আলহাজ্ব মো: শামসুল আলম খান প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কি শুধু উন্নয়ন সাংবাদিকতা করবো? ক্রাইম সাংবাদিকতা করার যাবে কিনা ? এক্ষেত্রে আমাদেরকে হাত-পা কি বাঁধা ?

এর জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার আগে পেশাগত এথিকস (নৈতিকতা) নিয়ে ভাবতে হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জাহান সম্পাদক অধ্যাপিকা রেবেকা ইয়াসমিন, দৈনিক আজকের ময়মনসিংহ সম্পাদক আলহাজ্ব মো:শামসুল আলম খান, নির্বাহী সম্পাদক আবুল হাসিম, দৈনিক আজকের বাংলাদেশ সম্পাদক এড. আব্দুর রাজ্জাক, দৈনিক সবুজ সম্পাদক আফসার উদ্দিন, দৈনিক আজকের খবর সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, দৈনিক মাটি ও মানুষ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আলহাজ্ব আশিক চৌধুরী, শাশ্বত বাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক প্রদীপ ভৌমিক, দৈনিক স্বদেশ সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক জগদীশ সরকার, দৈনিক স্বজন সম্পাদক মো. শাহজাহান প্রমুখ।

সভায় এক পর্যায়ে হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ এবং উন্নয়ন সাংবাদিকতায় উৎসাহিত করার লক্ষে জেলা প্রশাসক ৯ সদস্যের সংবাদপত্র সমন্বয় পরিষদ কমিটি গঠন করেন। এ কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এডিএম ফরিদা ইয়াসমিনকে আহবায়ক করা হয়।

কালের/এনআর/এনএম

Print Friendly, PDF & Email