হাওরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিতঃ 11:30 pm | October 14, 2019

কালের আলো প্রতিবেদক:

হাওর এলাকার মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে হাওর এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান।

তিনি বলেছেন, ‘একসময় মানুষ হাওরে আসতে চাইতো না। কিন্তু আজ হাজার হাজার মানুষ সারাদেশ থেকে হাওরে বেড়াতে আসেন। বিস্ময়কর অলওয়েদার রোড দেখতে যায়। সেখানকার বড় বড় সেতু দেখতে যায়। এগুলো শুনে আমার বুকটা ভরে যায়। খুব ভালো লাগে। পুরো হাওর একটা পর্যটন এলাকা হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হবে। তখন প্রকৃত অর্থেই হাওর হবে অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকা।’

সোমবার(১৪ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম খেলার মাঠে এক জনসভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

এক সময়ের চরম অনগ্রসর ও অবহেলিত হাওরের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই দিন আর নেই। আজ ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উন্নয়নের দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাদেশের মতো হাওরেও ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। সারা বছর চলাচল উপযোগী অলওয়েদার রোড হয়েছে। বড় বড় সেতু হয়েছে। গ্রামে গ্রামে সাবমার্জেবল রাস্তা হয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে। প্রতিটি ঘর আজ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। ভবিষ্যতে ফ্লাইওভারের মাধ্যমে সারা দেশের সঙ্গে হাওরের সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। কাজেই হাওরবাসীর স্বপ্ন অনেক ওপরে।’

রাষ্ট্রপতি অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘হাওরে যেকোনও মূল্যে মাদক নির্মূল করতে হবে।’ এ সময় তিনি জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকদের মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচিত হয়ে এলাকা ও মানুষকে ভুলে যাবেন না। এলাকাবাসীকে নিয়ে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। দুর্নীতিতে জড়াবেন না।’

তিনি হাওরের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘হাওরে শিক্ষার মান আরও ভালো করতে হবে। এখানকার ছেলেমেয়েরা চাকরিতে পিছিয়ে থাকে, বিসিএস পরীক্ষায় পাস করতে পারে না। আমরা দেশের অন্য এলাকাগুলোর সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যেতে চাই। চাকরি-বাকরি ও যোগ্যতায় এলাকার ছেলেমেয়েরা যেন কিছুতেই পিছিয়ে না থাকে। এর জন্য যত সহযোগিতা দরকার সব দেওয়া হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হাওরের উন্নতি দেখে একশ্রেণির কোম্পানি হাওরের জমি কেনার পাঁয়তারা করছে। তারা একর একর জমি কিনে মিল ফ্যাক্টরি করতে চায়। কিন্তু আপনাদের বলে দিচ্ছি, আপনারা এই হাওর পারের মানুষরা প্রয়োজন হলে নিজেদের মধ্যে কেনাবেচা করবেন। কিন্তু কোনোভাবেই বাইরের মানুষের কাছে জমি বিক্রি করা যাবে না। তারা জমি কিনে নিয়ে হাওর ও হাওরের ঐতিহ্য নষ্ট করে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার উন্নয়ন করছে। কিন্তু জনগণেরও এই অর্জনকে ধরে রাখতে হবে। এটা তাদের দায়িত্ব। এই উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই কাজ করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি দেশের চলমান উন্নয়নকে টেকসই করার লক্ষ্যে এই ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সাধারণ মানুষ প্রকৃতপক্ষে অনেক শক্তিশালী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষকে অবমূল্যায়ন না করার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং প্রবীণ রাজনীতিক আবদুল হামিদ তাদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, দয়া করে নির্বাচনের আগে তাদের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করতেন, তেমনি ব্যবহার বজায় রাখুন। সুখ, দুঃখে সব সময় তাদের পাশে থাকুন।

যুবকদের মাঝে মাদকের অপব্যবহার বর্তমানে উদ্বেগজনক অবস্থায় পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্টদের মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

তিনি এ সময় দুর্নীতি, অপকর্ম ও জুয়ার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের চলমান অভিযানকে স্বাগত জানান।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ইটনা উপজেলায় ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির পুত্র রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক এমপি, নূর মোহাম্মদ এমপি, আফজাল হোসেন এমপি, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান ইসলাম সেলিমসহ রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এনআর/এনএল

Print Friendly, PDF & Email