আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ 2:58 pm | September 06, 2019

স্পোর্টস ডেস্ক, কালের আলো:

চট্রগ্রাম টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাত্তাই পাচ্ছে না স্বাগতিক বাংলাদেশ। সবে মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলছে আফগানরা। অন্যদিকে বাংলাদেশ টেস্ট খেলছে প্রায় ১৯ বছর ধরে। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ৩৪২ রান তুলেছে আফগানিস্তান।

জবাবে ৮৮ রানেই ৫ উইকেট শেষ স্বাগতিকদের। রশিদ খানের বলে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন দলীয় অধিনায়ক সাকিব আল হাসান (১১)। তারপর ক্রিজে এসেই সেই রশিদ খানের শিকার হন মুশফিক। কোন রান না তুলেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে।

এর আগে ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই উইকেট বিলিয়ে দেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ব্যক্তিগত শুন্য এবং দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই আউট হয়ে যান এই ব্যাটসম্যান। ইনিংসের ২০তম ওভারে ব্যক্তিগত ১৭ রানে সৌম্যকে বিদায় করেন নবী। এরপর দলীয় ৫৪ রানে রশিদ খানের কাছে ধরাশায়ী হন লিটন। ফেরার আগে ৬৬ বলে ৩৩ রান তুলেন তিনি।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান।

চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৩৪২ রানে অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। টেস্ট ইতিহাসে আফগানিস্তানের দলীয় সর্বোচ্চ রান ছিল ৩১৪ রান। চলতি বছরের মার্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দেরাদুন টেস্টে এই রান করে তারা। এবার নিজেদের দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন আফগানরা। এত বিশাল রান তাড়া করতে উদ্বোধনী জুটিতে ব্যাটিংয়ে নামেন সৌম্য সরকার এবং সাদমান ইসলাম। আর ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই উইকেট বিলিয়ে দেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ব্যক্তিগত শুন্য এবং দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই আউট হয়ে যান এই ব্যাটসম্যান।

দ্বিতীয় দিনে শুরুতে আসগর আফগানকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। মাত্র ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছেন সাবেক আফগানিস্তান অধিনায়ক। তাইজুলের ফ্লাইটেড বলে সুইপ করতে চেয়েছিলেন আসগর। ঠিকঠাক ব্যাটে না লাগায় সেটি ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। ১৭৪ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৯২ রানের ইনিংসটি সাজান আসগর। আসগর আফগানের পর আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান আফসার জাজাইকেও সাজঘরে ফিরিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ব্যক্তিগত ৪১ রানে তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন এই ব্যাটসম্যান।

এরপর কায়েস আহমেদকে (৯) ফিরিয়ে এই টেস্টে নিজের প্রথম উইকেট আউট করেন সাকিব। আর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন আহমেদজাইকে (০)। এরপর রশিদ খান ফিফটি করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শেষ পর্যন্ত ৫১ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দিলে অল আউট হয় আফগানিস্তান।

টাইগারদের পক্ষে তাইজুল ইসলাম নিয়েছেন ৪টি উইকেট, সাকিব আল হাসান এবং নাইম হাসান নিয়েছেন দুইটি করে উইকেট। আর একটি উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ ১০২ রান করেছেন রহমত শাহ, ৯২ রান করেছেন আসগর আফগান আর ৫১ রান করেছেন রশিদ খান।

আগের দিন সাগরিকায় হতাশার এক দিন কাটালেন টাইগাররা। দলে চার স্পিনার, কোনো পেসার নেই। সাগরিকার এই স্পিন স্বর্গে পাঁচ স্পিনার নিয়েও আফগানিস্তানকে কাঁপন ধরাতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে প্রথম দিন শেষে আফগানদের সংগ্রহ ৯৬ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ২৭১ রান। দেশটির হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন রহমত শাহ। আসগর আফগান ৮৮ এবং আফসার জাজাই ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে শেষ করেছেন প্রথমদিনের খেলা।

আফগান অধিনায়ক রশিদ খান টস জিতে বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। আফগানদের হয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ব্যাট করতে নামেন ইব্রাহিম জাদরান এবং ইহসানুল্লাহ। টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আঁটসাঁট বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে চেপে ধরেছে বাংলাদেশ। দুই পাশ থেকেই বোলিং শুরু করেছেন সাকিব ও তাইজুল। ১ ওভার করে সাকিব বল তুলে দিলেন মিরাজের হাতে। ইনিংসের ১৩তম ওভারে দুর্দান্ত এক ঘূর্ণি বলে ইহসানউল্লাহকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন তাইজুল। আফগান এই ওপেনারকে ফিরিয়েই টেস্টে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তাইজুল। এতে তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। নিজের ২৫তম টেস্টেই এই মাইলফলক ছুয়েছেন তিনি।

এর আগে বাংলাদেশের হয়ে কেবল দুজনই এই কীর্তি গড়েছেন, মোহাম্মদ রফিক ও সাকিব আল হাসান। সাকিব ব্যক্তিগত ২৮তম টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে ১০০ উইকেট শিকার করেছিলেন। রফিক ৩৩ টেস্ট খেলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০০ উইকেট নিয়েছিলেন। অবশ্য এই ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে আছেন সাকিব। তিনি এরই মধ্যে ৫৫ টেস্টে ২০৫ উইকেট নিয়ে ফেলেন। তিনি একমাত্র বাংলাদেশি যিনি ২০০ উইকেট শিকার করেছেন।

চট্রগ্রাম টেস্টের ২৫তম ওভারে আবারো আফগান শিবিরে আঘাত হানলেন তাইজুল। টাইগার এই স্পিনারের বলে ৬৯ বলে ২১ রান করে লং অফে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ হন ইব্রাহিম জাদরান। রহমত শাহর সঙ্গে তার জুটি ছিল ২৯ রানের। লাঞ্চের ঠিক আগ মুহূর্তে হাশমতউল্লাহকে শহিদীকে ১৪ রানে আউট করেন রিয়াদ। ওভারের চতুর্থ বলে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান এই আফগান ব্যাটসম্যান।

এরপর ১২০ রানের জুটি গড়েন রহমত শাহ এবং আসগর আফগান। দ্বিতীয় সেশনের একটু পরই নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন রহমত শাহ। টেস্টে আফগানিস্তানের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবেও সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওভাই টেস্টের প্রথম ইনিংসেই সেঞ্চুরি তুলে নেন আফগান এই ব্যাটসম্যান। সেঞ্চুরিটা পেতে পারতেন দেশের দ্বিতীয় টেস্টেই। তবে রহমত শাহ গত মার্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আউট হয়েছিলেন ৯৮ রানে। এবার আর ভুল করেননি। ৯৮ থেকে নাঈম হাসানকে চার হাঁকিয়ে রহমত তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ১৮৬ বলে। ইনিংসের ৭০তম ওভারে নাঈম হাসান বোলিংয়ে এসে ফিরিয়ে দেন রহমত শাহ এবং মোহাম্মদ নবীকে।

বাংলাদেশ একাদশ:

সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান।

আফগানিস্তান একাদশ:

ইহসানউল্লাহ জানাত, ইব্রাহিম জাদরান, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শাহিদি, আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবী, আফসার জাজাই, রশিদ খান, ইয়ামিন আহমদজাই, কায়েস আহমেদ, জহির খান।

কালের আলো/বিআর/এমএম

Print Friendly, PDF & Email