ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশিতঃ 1:01 pm | August 19, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদ৷, কালের আলোঃ

ঢাকাসহ সারাদেশে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।

রোববার(১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ও সোমবার(১৯ আগস্ট) সকালেও খুলনা, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহে ৩ জন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমান (৪০) নামের এক ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। সোমবার সকাল ৭টায় তিনি মারা যান। তিনি পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক ফিজিশিয়ান (আরপি) ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ১৫ আগস্ট মিজানুর রহমান খুমেকের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হন। মিজানুর রহমানের বাড়ি রূপসা উপজেলার খাজাডাঙ্গা গ্রামে।

এ নিয়ে খুলনায় ডেঙ্গুতে মোট ৫ জনের মৃত্যু হলো। তবে মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এসএম কামাল বলেন, মিজানুর রহমান ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকলেও শনিবার বাথরুমে গিয়ে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। সিটি স্ক্যানে দেখা যায় হেড ইনজুরিতে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে মসজিদের এক খাদেমের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। দেলোয়ার হোসেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গীচর এলাকার শেখ শফিউদ্দিনের ছেলে।

তিনি শহরের পূর্বখাবাসপুর মসজিদের খাদেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, দেলোয়ার শেখ গত ১৮ আগস্ট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। দেলোয়ার শেখকে দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছয় রোগীর মৃত্যু হলো।

গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ফরিদপুরে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন ৩৪৬ জন।

অপরদিকে রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সামশুজ্জামান সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১১ আগস্ট ওই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন আনোয়ার হোসেন। তিনি নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার আব্দুল লতিফের ছেলে।

এছাড়া ২৯ জুলাই থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত ২২ দিনে রাজবাড়ীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৬ জন রোগী।

সোমবার সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। হবিগঞ্জে এ পর্যন্ত ৭২ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মাঝে সদর আধুনিক হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬ জন। গত এক মাসে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ডেঙ্গুর জীবাণু নিয়ে হবিগঞ্জে আসেন রোগীরা। গত এক মাসে ৭২ জন রোগী হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে সদর উপজেলার ৩ জন, লাখাই উপজেলার ২ জন ও বানিয়াচংয়ের ১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা ঢাকায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর হবিগঞ্জ আসেন।

কালেত কালের/এমএইচ/এমআর

Print Friendly, PDF & Email