কোরবানির প্রথম দিনের শতভাগ বর্জ্য অপসারিত : সাঈদ খোকন

প্রকাশিতঃ 4:51 pm | August 13, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলোঃ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের(ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, ডিএসসিসি ঈদুল আজহায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৬ হাজার মেট্রিক টন কোরবানি বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে নগরীকে প্রায় শতভাগ কোরবানি পশুর বর্জ্য মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

‘তারমধ্যে প্রথম দিন অর্থাৎ গতকাল সোমবার বিকেল ৩ টা হতে দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ১৩ আগস্ট বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ১৭টি পশুর হাটের বর্জ্যসহ কোরবানিকৃত পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।’

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে নগর ভবন প্রাঙ্গণে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ মেয়র এ তথ্য জানান।

মেয়র বলেন, আপনারা জানেন পুরান ঢাকাবাসী ঈদুল আজহার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিনেও পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। তাই এ দুদিনে আরো ৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে–যা ডিএসসিসি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ করবে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে কোরবানি পশুর হাটের সংখ্যা ছিল ১৪টি। ঈদুল আজহার তিন দিনে করপোরেশন মোট ১৯ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করেছিল। এবছর যেহেতু হাটের সংখ্যা ১৭টি। তাই বর্জ্যের পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে। এবছর কোরবানি বর্জ্য অপসারণের পরিমাণ দাঁড়াবে ২১ হাজার মেট্রিক টন। নগরবাসীদের বর্জ্য অপসারণ কাজে করপোরেশনকে সহযোগিতা করার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেয়র।

তিনি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং নাগরিকদের সহযোগিতার ফলেই নগরীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্যমুক্ত করার এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি ডিএসসিসি’র আওতাধীন এলাকার নাগরিকদের কোরবানি বর্জ্য অপসারণ সেবা পেতে ০১৯৬১১০০০৯৯৯ এ হট লাইন নম্বরে ফোন করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রেসি ব্রিফিং অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নগরীর বর্জ্য অপসারণের কাজে নিয়মিত এবং অতিরিক্ত মিলে মোট ৯ হাজার ৫০০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী কাজ করছে। বর্জ্য অপসারণে ব্যবহার হচ্ছে-১৫২টি খোলা ট্রাক, ৮২টি কন্টেইনার বক্স, ২৯টি পানির গাড়ি, ২৩টি পে লোডার, ১২টি টায়ার ডোজারসহ নানা ধরণের যান ও যন্ত্রপাতি।

এছাড়া নাগরিকদের জন্য কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বর্জ্যব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণরোধে কোরবানির স্থানটি ভালভাবে ধুয়ে দেয়ার জন্য ১৮০০ লিটার ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, গতবছরের তুলনায় এবছর নাগরিকদের বেশি পরিমাণ করপোরেশন কর্তৃক দেয়া বর্জ্য ব্যাগ ব্যবহার করেছেন।

কালের আলো/বিও/এনআর

Print Friendly, PDF & Email