প্রযোজকদের জিম্মিদশা থেকে বাঁচাতে কাজ করবে শাকিবের এস কে ফিল্মস

প্রকাশিতঃ 9:45 pm | July 18, 2019

শোবিজ ডেস্ক, কালের আলো:

কোটি টাকা দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে ছবিটি মুক্তির দিন টাকা ফেরত পেতেন প্রযোজক। ছবিটি দর্শকপ্রিয়তা পেলে লাভের টাকায় নতুন চলচ্চিত্র শুরু করতেন তিনি। প্রযুক্তির সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের পরিবেশ। এখন ছবি মুক্তি দিতে গেলে বাড়তি গুনতে হয় প্রজেক্টর ভাড়া। লাখ লাখ টাকা খরচ করে দিতে হয় ছবি মুক্তি।

কারণ, সিনেমা হল মালিক তাঁর সিনেমা হলে প্রজেক্টর লাগাননি, প্রজেক্টর দিয়েছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। তার পরও টিকেটের সঠিক হিসাব না পাওয়ায় টাকা ফেরত পাচ্ছেন না প্রযোজক। যে কারণে চলচ্চিত্রবিমুখ হচ্ছেন প্রযোজক।

শাকিব খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস কে ফিল্মস থেকে সারা দেশে ২০০ সিনেমা হলে প্রজেকশন মেশিন বসানো হবে। তবে কি তিনিও প্রযোজকদের জিম্মি করে টাকা নেবেন। এমন আলোচনা হচ্ছে এফডিসিজুড়ে।

শাকিব খানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমি নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রযোজনা করছি। ছবি মুক্তি দিতে গেলে আমাদেরও একই সমস্যায় পড়তে হয়। যে কারণে আমরা সারা দেশে সিনেমা হলে প্রজেক্টর বসানোর চিন্তা করছি। তবে সে ক্ষেত্রে আমরা সাধারণ প্রযোজকদের জিম্মি করে টাকা কামাতে চাই না। বরং এই জিম্মিদশা থেকে বাঁচাতে চাই। কারণ, সার্ভারে একটি ছবি লোড করতে যে খরচ হয়, আমরা সেই টাকাটা চার্জ হিসেবে নেব। বাড়তি কোনো টাকা গুনতে হবে না প্রযোজকের।’

দীর্ঘদিন পর হতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএফডিসিতে অবস্থিত প্রযোজক পরিবেশক সমিতির কার্যালয় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। প্রার্থীরা চলচ্চিত্রের সংকট শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সাধারণ প্রযোজকদের। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ইকবাল। তিনি বলেন, ‘নিজেদের উদ্যোগে যতটা সম্ভব করব। আর যদি পাস করতে পারি, তা হলে সমিতি থেকে ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থা করব। এতে করে লাখ লাখ টাকা বেচে যাবে সাধারণ প্রযোজকদের।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনকৃত এফবিসিসিআইর অঙ্গসংগঠন। মামলা ও নানা জটিলতার কারণে সাত বছর ধরে বন্ধ ছিল এই সমিতির নির্বাচন। আগামী ২৭ জুলাই এই সমিতির নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এর আগে নির্বাচন হয় ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট।

এবারের নির্বাচনে কোনো প্যানেল থাকছে না। নির্বাচন হবে দুই ধাপে। প্রথমে সাধারণ সদস্যরা ১৯ জন নির্বাহী সদস্যকে নির্বাচিত করবেন। এরপর ১৯ জন মিলে সম্পাদকীয় পদের জন্য ১০ জনকে নির্বাচিত করবেন।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অর্থাৎ নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিরাজুল ইসলাম উকিল।

সদস্য হিসেবে থাকবেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (উপসচিব), মো. খাদেমুল ইসলাম (সহকারী প্রোগ্রামার)। আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন আবদুর রহিম খান (যুগ্ম সচিব), সদস্য আবদুছ সামাদ আল আজাদ (যুগ্ম সচিব), সৈয়দা নাহিদা হাবিবা (উপসচিব)।

কালের আলো/আরএস/বিআর

Print Friendly, PDF & Email