এরশাদ ছিলেন আমার বাবার মতো: জিএম কাদের

প্রকাশিতঃ 12:00 am | July 18, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলোঃ

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুধু আমার ভাই ছিলেন না। তিনি ছিলেন, আমার বাবার মতো আবার কখনও শিক্ষক। তিনি আমাকে টাই বাঁধতে শিখিয়েছেন। কাটা চামচ ব্যবহার শিখিয়েছেন। আবার রাজনৈতিক শিক্ষাও দিয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে গুলশান আজাদ মসজিদে প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কুলখানিতে কাতরকণ্ঠে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এসময় জাপা নেতাদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, মসিউর রহমান রাঙ্গা, কাজী ফিরোজ রশিদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

জিএম কাদের বলেন, আমি যখন রাজনীতিতে আসি তখন কিভাবে পরিবেশ ট্যাকেল দিতে হয়, সংকট মোকাবেলা করতে হয় তা শিখিয়েছেন। আমাদের মাথার ওপর ছাতাটি সরে গেছে, বট গাছটি আর নেই। আপনারা ওনার জন্য দোয়া করবেন।

তিনি বলেন, আজকে খেলায় যে অর্জন তার বীজবপন করেছেন ওনি, বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করে। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই ওনার বীজটাকে লালনের জন্য। আওয়ামী লীগ গ্রামকে শহর করার কথা বলছে, এর গোড়াপত্তন করেছেন ওনি উপজেলা প্রতিষ্ঠা করে।

জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, একটি মানুষের অবদান অর্জন বুঝা যায় তার মৃত্যূর পর জানাজায় লোক সমাগম দেখে। ওনার চারটি জানাজা হয়েছে কোনটিতে তিলধরনের জায়গা ছিল না। একটির চেয়ে আরেকটি সমাগম বেশি হয়েছে। এতে বুঝা যায় ওনার নীতিকর্ম মানুষ গ্রহণ করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, আমার ভাই যখন হাসপাতালে তখন প্রতি ঘণ্টার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। সম্মিলিত সমারিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা রাতদিন কাজ করেছেন। ওনারা নিজের বাবার মতো করে সেবা করেছেন।

প্রসঙ্গত, রোববার সকাল পৌনে ৮টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন।

রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদে দ্বিতীয় এবং বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে মঙ্গলবার পল্লী নিবাসে সমাহিত করা হয় তাকে।

কালের আলো/এনএল/এমএইচ

Print Friendly, PDF & Email