মেয়াদোত্তীর্ণ সভাপতির টালবাহানায় ক্ষুব্ধ ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা

প্রকাশিতঃ 9:47 pm | March 24, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে জটিলতা। সমিতির সদস্যদের ক্ষোভের মুখে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় চার মাস পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ৩০ মার্চ। এর মধ্যে শুক্রবার(২২ মার্চ) রাতে টিএসসিস্থ সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটে।

এই ঘটনার পর শনিবার(২৩ মার্চ) দুপুরে সমিতির জরুরী কার্যনির্বাহী সভা ডাকা হয়। সভায় সভাপতি আসিফ ত্বাসীন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নয়ন নির্বাচন দিতে গড়িমসি করায় সমিতির একাধিক কার্যকরী সদস্যের রোঁষানলে পড়েন।

কার্যকরী সভা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত নির্বাচন কমিশনারগণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে নির্বাচনের তারিখসহ পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারী সমিতির ষষ্ঠ সাধারণ সভায় ২২ মার্চের মধ্যে নির্বাচনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কিন্তু ২২ মার্চ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, বর্তমান সভাপতি আসিফ ত্বাসীনের অনীহার কারণেই একাধিকবার নির্বাচনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি আসিফ ত্বাসীন বলেন, ‘‘অনেকের অভিযোগ থাকতেই পারে, মত-দ্বিমত থাকবেই সংঠনের জন্য এটাই স্বাভাবিক’’

সমিতি সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর সাংবাদিক সমিতির এই কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এক বছরের জন্য নির্বাচিত এই কমিটি একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন আগে ২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি সাধারণ সভায় এই কমিটির বার্ষিক সেমিনার ও ভ্রমনসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দুই মাসের মেয়াদ বাড়িয়ে এ বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে নির্বাচন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু গৃহিত নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও নির্বাচনের বিষয়ে কোন ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয় না। পরে ২৫ ফ্রেব্রুয়ারী আরেকটি সাধারণ সভা ডেকে ২২ মার্চের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

এদিকে সমিতির কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানায় শনিবার সমিতির পক্ষ থেকে সমিতির দপ্তর সম্পাদক রায়হানুল ইসলাম আবির বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

ডায়েরীতে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাতে কে বা কারা সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ের পশ্চিম পাশের স্টিলের আলমারি থেকে ৭৮ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। এর সঙ্গে সমিতির কার্যালয়ের মূল ফটকে দুটি তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে টাকার বিষয়ে সমিতির অর্থ সম্পাদক আব্দুল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টাকা চুরির বিষয়টি আমার কাছে পরিস্কার নয়।

এ বিষয়ে সমিতির একাধিক কার্যনির্বাহী সদস্য বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংবাদিক সমিতির মেয়াদ এক বছর। কিন্তু সমিতির সভাপতি বিভিন্ন সময় সাধারণ সভা ডেকে নানা অজুহাত দেখিয়ে তার প্রভাব খাটিয়ে সমিতির মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছে। এভাবে সর্বশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ মার্চের মধ্যে নির্বাচনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কথা ছিল। কিন্তু এরপরও ২২ মার্চের মধ্যে নির্বাচনের কোন ধরণের পদক্ষেপ নেননি সভাপতি। তাঁদের ধারণা, ক্ষুব্ধ হয়ে সমিতির সদস্যরা ২২ মার্চ মধ্যরাতে সমিতিতে তালা লাগিয়ে দেয়।

তাঁরা বলেন, ‘‘সাংবাদিক সমিতির কমিটির অবৈধভাবে থাকা মেয়াদের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আলমারি থেকে টাকা চুরির নাটক সাজিয়েছে। কেননা চোরের ধর্ম তালা ভেঙ্গে লুট করে যত দ্রুত পলায়ন করা, তালা লাগিয়ে পোস্টারিং করে সময়ক্ষেপন করা নয়।’’

কালের আলো/এসআই/এমএইচএ

Print Friendly, PDF & Email