বহুবিধ গ্রুপে বিভক্ত তৃণমূল আওয়ামী লীগ

প্রকাশিতঃ 8:05 pm | March 24, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল আওয়ামী লীগ বহুবিধ গ্রুপে বিভক্ত হতে দেখা গিয়েছে। প্রতিটি গ্রুপকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে গ্রুপগুলোকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তৃণমূল আওয়ামী লীগের গ্রুপিং রাজনীতি চাঙ্গা হয়েছে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীকে কেন্দ্র করে একাধিক গ্রুপে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। প্রকাশ্যেই গ্রুপিং রাজনীতির বহি:প্রকাশ ঘটেছে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে। উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূল নেতাদের সমন্বয় করতে ব্যর্থ বর্তমান এমপি ও মন্ত্রীরা। এমনটাই জানালেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

সূত্রে জানা যায়, টানা তৃতীয় বারের মত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারে ভালো করলেও দলে ‘বেহাল’ অবস্থা! কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সংগঠনে ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’ চরমে। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাচনে দলটির প্রাণ তৃণমূলে বেশ নাজেহাল অবস্থা। মাঠে বিরোধী দল না থাকায় আওয়ামী লীগেই একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক প্রার্থী। পাল্লা দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। একে অপরের চরিত্র হননেও পিছপা হচ্ছেন না।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের চেয়ে আত্মতৃপ্তি দলের মধ্যে। এবারের বিদ্রোহী দমনে নমনীয় ছিল আওয়ামী লীগ। নির্বাচন জমজমাট করতেই তাদের এই পদক্ষেপ বলে জানা গেছে। কিন্তু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়েছে। দলীয় রাজনীতির প্রভাব না থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত তৃণমূল। তবে দলীয় প্রভাব না থাকলে রয়েছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, সে দলের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়ে যায়।

দলীয় প্রভাব না থাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিরাজ করছে চরম গ্রুপিং। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলেই আসছে। একে অপরকে ঘায়েল করাই যেন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার বাস্তব রুপ ফুটে উঠেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে থেকে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তৃণমূল আওয়ামী লীগের মন মালিন্য চলে আসছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের হয়ে কাজ করলেও গ্রুপগুলো ছিল সক্রিয়। তখন সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীরাও গ্রুপকে মিলিত করতে পারেনি। সেই গ্রুপিংয়ের রাজনীতি চলতি উপজেলা নির্বাচনে প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ৩টি গ্রুপ রয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান পদ নিয়েই গ্রুপিং বেশি। তবে চেয়ারম্যান পদে বেশি গ্রুপিং। চেয়ারম্যান পদের জন্য তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতারা নৌকার প্রতীককে সমর্থন দিলেও বিদ্রোহীদের নিয়ে চলছে গ্রুপিং।

এদিকে এখন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তিনটি ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি ধাপেই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয়ের সংখ্যা বেশি। তবে বিদ্রোর্হীদের সংখ্যাও কম নয়। ছাড়া বিনা ভোটেই শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। সেই সব এলাকায় গ্রুপিংয়ে বিষয়টি অনেকটাই কম। তবে সেই এলাকার কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়তাই একক প্রার্থী হওয়া যোগ্যতা রেখে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। সেই কারণে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদেও গ্রুপিং করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, আমরা উপজেলা নির্বাচনকে ওপেন রেখেছি। তাই একাধিক প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনের পরেই তারা আবার আওয়ামী লীগের হয়ে যাবে। তবে বিদ্রোহীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড কিছুটা নমনীয়তা দেখাচ্ছেন। সেই কারণে বিদ্রোহীরা সাহস পেয়ে নির্বাচন করছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা উপজেলা নির্বাচনকে ওপেন করে দিয়েছি। তাই উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী দুই ভাগের বিভক্ত হয়ে গেছে। এটা স্বাভাবিক। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের প্রতিযোগীতা হচ্ছে। নির্বাচনের পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ আবার এক হয়ে যাবে।

কালের আলো/এসআই/এমএইচএ

Print Friendly, PDF & Email