ভোট দিবেন না এরশাদ!

প্রকাশিতঃ 10:49 pm | December 28, 2018

বিশেষ প্রতিবেদক, কালের আলো:

রংপুর-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। অসুস্থতার কারণে একদিনের জন্যও প্রচারণায় যেতে পারেননি। ভোটও দিতে যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছে জাতীয় পার্টি সূত্র।

মনোনয়ন দাখিলের পর হাসপাতাল ও বাসায় আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। এরপর ১০ ডিসেম্বর যান সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য। সেখানে লম্বা সময় অবস্থান শেষে ২৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন। অনেকে ভেবেছিলেন শেষ মুহূর্তে একদিনের জন্য হলেও প্রচারণায় যাবেন। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। এখন ভোট দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তও বাতিল করা হয়েছ।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের এপিএস মনজুরুল ইসলাম জানান, ‘স্যারকে ডাক্তাররা পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সে কারণে তিনি ভোট দিতে রংপুর যাচ্ছেন না। সপ্তাহ দুয়েক পরে আবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাবেন।’

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরবাসীদের কাছে তার জন্য দোয়া ও ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান মনজুরুল ইসলাম। এরশাদ রংপুর-৩ (সদর) আসনের ভোটার। তার রংপুরের বাসভবন ‘পল্লী নিবাস’ এলাকায় শিশুমঙ্গল প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি ভোট দিয়ে থাকেন।

ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রত্যেক নির্বাচনেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একাধিক আসনে নির্বাচন করে এসেছেন। প্রথম দিকে ৫টি করে আসনে নির্বাচন করতেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ৩টি আসনে ভোট করার সীমাবদ্ধতা করলে সেবার মহাজোট থেকে রংপুর-৩ ও ঢাকা-১৭ আসনে ভোট করেন। এবারও দুটি আসন রংপুর-৩ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন।

নির্বাচনের ঠিক ৩ দিন পূর্বে বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) ঢাকা-১৭ আসন থেকে সরে দাঁড়ান এরশাদ। উন্মুক্ত এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিত্র নায়ক ফারুককে সমর্থন দিয়েছেন। এরশাদের রেকর্ড হচ্ছে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো আসনে পরাজিত হন নি। যখন যতটি আসনে ভোট করেছেন সবগুলোতে বিজয়ী হয়েছেন। যা তিনি গর্বের সঙ্গে বলে থাকেন।

২০০৮ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। এবার উন্মুক্ত থাকায় বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে সে কারণেই এরশাদ সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

কালের আলো/ওএইচ

Print Friendly, PDF & Email