ঢাকায় নেয়া হচ্ছে লতিফ সিদ্দিকীকে

প্রকাশিতঃ 5:28 pm | December 19, 2018

কালের আলো প্রতিবেদক:

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অসুস্থ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হচ্ছে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক সদর উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঢাকার কোন হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এর আগে নিজের গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে অনশনের তৃতীয় দিন বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়লে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে সকাল ৯টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মোফাজ্জল হোসেন তুষার, মেডিসিন বিভাগের রাশেদুজ্জামান ও সুজাউদ্দিন তালুকদার বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে আমরণ অনশনে থাকা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর শারিরীর অবস্থা পরীক্ষা করেন।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মোফাজ্জল হোসেন তুষার বলেন, তিনদিন ধরে কিছু না খাওয়ার কারণে তার শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। তার রক্তচাপ কমে যাচ্ছে। আগে থেইে তার হৃদপিন্ডে রিং পরানো রয়েছে। চিকিৎসা না পেলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। আমরা তাকে তার শরীরের অবস্থার বিষয়টি বুঝিয়েছি। উনি হাসপাতালে চিকিৎসা যেতে রাজি হয়েছেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে হাসপাতালে যাওয়ার সময় চিকিৎসকদের উদ্দেশে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি হাসপাতালে দুই ঘণ্টার বেশি থাকব না। চিকিৎসা শেষে আমাকে তোমরা এখানে নিয়ে আসবে।

গত রোববার (১৬ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের বল্লবভবাড়ি ও সরাতৈল এলাকায় গণসংযোগে করতে গেলে তার গাড়ি বহরে হামলা হয়। এ সময় চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, এতে ১০ নেতাকর্মী আহত হন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীর কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন লতিফ সিদ্দিকী।

হামলার বিচার চেয়ে রোববার বিকেল থেকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন লতিফ সিদ্দিকী। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলারকারীদের গ্রেফতার ও কালিহাতী থানার ওসি মোশারফ হোসেনকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তিনি সেখানেই বসে থাকবেন বলে জানান। পরদিন সোমবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন লতিফ সিদ্দিকী।

কালের আলো/এএ/এমএইচএ

Print Friendly, PDF & Email