ঐক্যফ্রন্টের দৃষ্টিতে পুলিশের ‘অতি দলবাজ’ ৭০ কর্মকর্তার তালিকা ইসিতে

প্রকাশিতঃ 6:57 pm | November 22, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলোঃ
নির্বাচন কমিশনের কাছে পুলিশের ৭০ কর্মকর্তার তালিকা দিয়ে তাদের প্রতি কোনো নির্দেশনা বা আহ্বান না জানাতে অনুরোধ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘অতি দলবাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই সঙ্গে তাদের ‘চিহ্নিত বিতর্কিত কর্মকর্তা’ হিসেবে অভিহিত করে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সরকার বিরোধী বৃহৎ এ রাজনৈতিক জোট।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আলাল।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ভাষ্য, এসব কর্মকর্তারা পক্ষপাতদুষ্ট। তারা সরকারের পক্ষে কাজ করছেন। এসব কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদেরকে সরিয়ে ফেলার জন্যও ইসির কাছে অনুরোধ করা হয়।

ঐক্যফ্রন্ট যে ৭০ জন পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে, তার মধ্যে পুলিশ সদর দফতর, ডিএমপিসহ বিভিন্ন বিভিন্ন বিভাগীয় পর্যায়ের অতিরিক্ত আইজিপি, ডিজি, ডিআইজি, কমিশনার ও ডিসি পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন ৩৯ জন। বাকি ৩১ জন পুলিশ সুপার পদে কর্মরত। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ছয় জন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুই জন, সিলেট বিভাগে একজন, বরিশাল বিভাগে দুই জন, খুলনা বিভাগে ছয় জন, চট্টগ্রাম বিভাগে চার জন, রংপুর বিভাগে তিন জন ও রাজশাহী বিভাগে কর্মরত সাত জন।

তালিকায় থাকা কর্মকর্তারা হলেন-

এডিশনাল আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমান, র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, এডিশনাল আইজিপি (টেলিকম) ইকবাল বাহার, ডিআইজি( নৌ পুলিশ) শেখ মো. মারুফ হাসান, ডিআইজি সিলেট রেঞ্জ মো. কামুরুল আহাসান, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ খন্দকার গোলাম ফারুক, ডিআইজি খুলনা রেঞ্জ মো. দিদার আহমেদ, ডিআইজি রাজশাহী রেঞ্জ এম খুরশিদ হোসেন, কমিশনার (ডিআইজি কেএমপি) হুয়াহুন কবির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিনশাল কমিশনার কাউন্টার মো. মনিরুল ইসলাম, কমিশানর (ডিআইজি) চট্ট্রাগাম মেট্রোপলিটন পুলিশ মাহবুবুর রহমান রিপন, অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি, ঢাকা) মীর রেজাউল আলম, ডিআইজি (সিটি এসবি ঢাকা) মোহাম্মদ আলী মিয়া, ডিআইজি (রংপুর রেঞ্জ) দেবদাস ভট্রাচার্য্য,

অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি ডিএমপি) কৃঞ্চপদ রায়, ডিআইজি (পুলিশ হেডকোয়ার্টাস) হাবিবুর রহমান, ডিআইজি (অপারেশন পুলিশ হেডকোয়ার্টাস) আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশনের কমিশনার হাফিস আক্তার, ডিআইজি (ট্রেনিং) ড: খ. মহিদ উদ্দিন, অরিরিক্ত কমিশনর (ডিএমপি) আবদুল বাতেন, র‌্যাব-৪ এর এডিশনার ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির, যুগ্ম কমিশনার (ডিএমপি) শেখ নাজমুল আলম, এডিশনার ডিআইজি (খুলনা রেঞ্জ) একে এম নাহিদুল ইসলাম, এডিশনাল ডিআইজি (খুলনা রেঞ্জ) মো. মনিরুজ্জামান, এডিশনার ডিআইজি (সিলেট রেঞ্জ) জয়দেব কুমার ভদ্র,

এডিশনাল ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) মো. আসাদুজ্জামান, জয়েন কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম, এসপি মোল্লা নজরুল ইসলাম, এসপি (টুরিস্ট পুলিশ, সিলেট) আলতাফ হোসেন, ডিসি (তেজগাঁও) বিপ্লব কুমার সরকার, ডিসি ডিএমপি হারুন অর রশীদ, ডিসি রমনা মো. মারুফ হোসেন সরকার, ডিসি (সিএমপি) এস এম মেহেদী হাসান, ডিসি (ডিবি, উত্তর) খন্দকার নুরুন নবী, ডিসি (সিএমপি) মো. ফারুকুল হক, ডিসি (কাউন্টার টেরিজিম, ডিএমপি) প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, ডিসি (ডিএমপি) এস এম মুরাদ আলী, এডিসি (ডিএমপি) শিবলী নোমান, এসপি (ঢাকা) শাহ মিজান শফি, এসপি (নায়ারণগঞ্জ) মো. আনিসুর রহমান, এসপি (মুঞ্জিগঞ্জ) মো. জায়েদুল আলম, এসপি (নরসিংদী) মিরাজ, এসপি (টাঙ্গাইল) সনজিত কুমার রায়,এসপি (মাদারীপুর) সুব্রত কুমার হাওলাদার, এসপি (ময়মনসিং) শাহ আবিদ হোসেন, এসপি (শেরপুর) আশরাফুল আজিম, এসপি (সিলেট) মো. মনিরুজ্জামান,এসপি (বরিশাল) সাইফুল ইসলাম,

এসপি (ভোলা) মোক্তার হোসেন, এসপি (খুলনা) এস এম শফিউল্লাহ, এসপি (সাতক্ষীরা) মো. সাজ্জাদুর রহমান, এসপি (বাগেরহাট) পংকজ চন্দ্র রায়, এসপি (যশোর)মঈনুল হক, এসপি (ঝিনাইদহ) হাসানুজ্জামান, এসপি (কুষ্টিয়া) আরাফাত তানভির, এসপি (চট্টগ্রাম) নূর এ আলম মিনা, এসপি (নোয়াখালী) ইলিয়াস শরীফ, এসপি (ফেনী) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, এসপি (কুমিল্লা) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এসপি (রংপুর) মিজানুর রহমান, এসপি (দিনাজপুর) সৈয়দ আবু সায়েম, এসপি (ঠাকুরগাঁও) মনিরুজ্জামান, এসপি (রাজশাহী) মো. শহিদুল্লাহ, এসপি (চাপাইনবাবগঞ্জ) মোজাহিদুল ইসলাম, এসপি (নওগাঁ) ইকবাল হোসেন, এসপি (নাটোর) সাইফুল্লাহ, এসপি (বগুড়া) আশরাফ আলী, এসপি (সিরাজগঞ্জ) টুকুল চক্রবর্তী ও এসপি (পাবনা) রফিক ইসলাম।

সিইসির উদ্দেশে চিঠিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন-আপনাকে জানাচ্ছি যে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আমরা মাঠ প্রশাসনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে আহ্বান জানিয়েছি। আপনিও ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণাকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সব দল ও প্রার্থীর জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশবাসী লক্ষ্য করছে যে, তফসিল ঘোষণার পর ১০ থেকে ১২ দিন সময় অতিবাহিত হলেও আপনাদের এ সব প্রতিশ্রুতির দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। উপরন্তু সরকারের সাজানো পুলিশ প্রশাসনের অতি দলবাজ ও চিহ্নিত বিতর্কিত কর্মকর্তারা নির্বাচনী মাঠ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। অথচ কমিশন এ সব বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

এ অবস্থায় পুলিশ প্রশাসনের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহারপূর্বক নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।

চিঠিতে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমরা মাঠ প্রশাসনের অবশিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পর্যাক্রমে প্রত্যাহারের দাবি জানাবো।

তিনি আরো বলেন, অবিলম্বের অন্যান্য সব পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল জেলার বাইরে বদলির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও পুনরায় জোর দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত অন্য একটি চিঠিতে জনপ্রশাসন সচিব, ইসি সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রা ও খুলনা; চট্টগ্রাম, ভোলা, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ঝিনাইদহ, খুলনা, কুষ্টিয়া, নড়াইল, ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, রাজশাহী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকদের (রিটার্নিং অফিসার) প্রত্যাহার চেয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ নভেম্বর। বাছাই ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।
কালের আলো/এনএম

Print Friendly, PDF & Email